১০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নি

একটি রাস্তায় ৮ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ৬৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের মালতী গ্রাম। একটি রাস্তার কারণে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ দীর্ঘদিন যাবত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ১০ বছরেও এখানে লাগে উন্নয়নের ছোঁয়া।

ভুক্তভোগী মানুষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন। সরকারের কাছে তারা দ্রুত নতুন পাকা সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার একটি বৃহদ গ্রাম মালতীতে ভোটার সংখ্যা ৩,৫০২ জন এবং জনসংখ্যা ৮ হাজারের বেশি। উত্তরপাশের ব্রীজ থেকে দক্ষিণ দিকে গ্রামের ভেতরে চলে গেছে এ প্রধান রাস্তা। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। পাশের ঘড়িয়া, নরদহি, ভাউয়াল, দেউপুর ও নগরবাড়ী গ্রামের অসংখ্য মানুষ প্রতিনিয়তই যাতায়াত করেন।

মালতী গ্রামে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি মাদ্রাসা, একটি বাজার, একটি বড় মসজিদ, ঈদগাঁ মাঠ ও কবরস্থান। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামীণ এ প্রধান রাস্তাটি যানবাহন চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে গেছে। দুই পাশে ভেঙে রাস্তাটি সরু হয়েছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে যাতায়াত করা যায় না। ব্যক্তিগত কারের মালিকরা গাড়ি অন্যত্র রেখে বাড়ি যান। বৃষ্টি হলে রাস্তার মাঝে মাঝে গর্তে হাঁটু পানি জমে যায়। তখন পায়ে হেঁটেও চলা কষ্টকর। যাতায়াতের অসুবিধার কারনে কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগী কম হয়। ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ শোনার কেউ নাই।

গ্রামে শাহালম মিয়া বলেন লজ্জার কথা কি বলবো ? ঈদের পরদিন আমার কিছু আত্মীয় স্বজন আসে। রাস্তার দুরবস্থার কারনে আমি তাদেকে আমার বাড়িতে নিয়ে যেতে পারি নাই। পরে শশুড় বাড়ি নিয়ে যাই। ভ্যান চালক রহিজ উদ্দিন বলেন রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। খাইলা ভ্যানগাড়ী টাইনা নিতে অয়। নারী পথচারী বলেন ভ্যান চলে না। তাই হাঁইটাই যাইতাছি। গর্ভবতী মহিলাদের যাতায়াতে যে কি কষ্ট হয়, সেটা বইলা বোঝানো যাবো না।

মিজানুর রহমান মিঞ্জু বলেন আমরা গ্রামবাসী চরম ভোগান্তিতে আছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশের যুগে এ ধরনের রাস্তা কোথাও আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। রুবেল মিয়া বলেন আমাদের কষ্ট চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। আবু বকর সিদ্দিকী বলেন শুধু মালতী গ্রামের নয়, সার্বিক এলাকার মানুষ নতুন রাস্তা চাচ্ছে।

মালতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন জাহান বলেন, কোমলমতী শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে অসুবিধা হয়।বৃষ্টি হলে ছেলেমেয়েরা পা পিছলে পড়ে ব্যাথ্যাও পায়। এখানে দ্রুত নতুন রাস্তা করা দরকার।

নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। যাতে জনস্বার্থে এখানে দ্রুত নতুন রাস্তা নির্মাণ হয়।

নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহর আলী বলেন, আমার গাড়ী নিয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। ফলে বাধ্য হয়েই প্রতিনিয়ত হেঁটে বাড়িতে যাই।

টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে কালিহাতীর মালতী গ্রামের এ রাস্তার অনুমোদন পেলে দ্রতই নির্মাণ করা হবে।