খালের ওপর সেতু নির্মাণ

৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু কোনো কাজে আসে না মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩ | ৩২৯

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে খালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতু। যার দু’পাশে  নেই কোনো সংযোগ সড়ক। নেই কোনো বসতিও। এছাড়া সেতুটির প্রায় ১০০ ফুট অদূরে রয়েছে রেললাইন। ফলে সেতু মানুষের কোনো কাজেই আসছে না। স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের মোহাইল গ্রামের গরিল্ল্যা বিলের মাঝ দিয়ে রাস্তায় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-জামালপুর রেললাইনের পাশে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মোহাইল গ্রামের গরিল্ল্যা বিলের খালের রাস্তায় যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে তার এক পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই।

অপর পাশে সেতুটি ওঠার জন্য কিছু মাটি ফেলা আছে। দু’পাশে বিল। বিল থেক ১০০ ফুট দূরে জামালপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেললাইন। অথচ সেতুর আশপাশে কোনো বসতি নেই।

মোহাইল গ্রামের ফারুক মিয়া বলেন, কয়েক বছর আগে এলাকাবাসীর জনস্বার্থে সেতুটি খালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। এ সেতুটি আমাদের কোনো প্রয়োজনে আসছে না। এদিকে কোনো মানুষের যাতায়তও নেই। সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে খালের উপর অযথা সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, গরিল্ল্যা বিলের ওপর যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে তার আশপাশে কোনো বসতি নেই। সেতুটির কোনো সংযোগ সড়কও নেই। এই সেতুটি আমাদের কোনো কাজেই আসছে না। সরকারের লাখ লাখ টাকা নষ্ট করেছে স্থানীয় উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। যেখানে সেতু করলে মানুষের কাজে আসবে সে জায়গাতে সেতু নির্মাণ করার দাবি জানাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষক বলেন, ব্যক্তির পকেট ভারী করার জন্য এই সেতু। সরকারের লাখ লাখ টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। যেখানে সেতু করলে মানুষের জন্য উপকার হবে সেখানে সেতু করা হোক। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল মাসুম বলেন, এক মাসে আগে সেতুটি পরিদর্শন করেছি। বন্যার কারণে কয়েক মাস ধরে সংযোগ সড়ক তলিয়ে আছে। আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে শুকনো মৌসুমে অতি দ্রুত সংযোগ সড়ক মেরামত করে মানুষের যাতায়াতের জন্য উপযোগী করে দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক জানান, সেতুটি আমি দেখেছি। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিপ্তর সেতুটি কি কারণে করেছে বিষয়টি আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসফিয়া সিরাত জানান, সেতুটির দু’পাশে যদি কোনো সংযোগ সড়ক না থাকে তাহলে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।