বাংলাদেশের ছয় জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমোদন ইরানের

আলোকিতপ্রজন্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৩৩ এএম, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ | ৯০

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশের পতাকাবাহী ছয়টি জাহাজকে জলপথটি অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে ইরান।

ঢাকায় ইরানি দূতাবাসে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি এ তথ্য জানান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইরান দূতাবাস।

ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেন, ‘আটকে পড়া ছয়টি জাহাজের বিষয়ে তেহরানকে জানিয়েছিলাম। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এ জাহাজগুলোকে সহায়তার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। তবে আগে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় আমরা জাহাজগুলো শনাক্ত করতে পারিনি। তাই ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এর বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সরকার সেসব তথ্য দিয়েছে।’

জাহাজগুলো ছাড়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ পথ দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের কোনো সমস্যা নেই বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করব।’

এক প্রশ্নের জবাবে জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেন, ‘বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি লক্ষ করছে ইরান। ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেন জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সেদিকে ইরানের নজর রয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখবে ইরান।’

জলিল রহিমি জাহানাবাদি আরো জানান, ইরানে আটকে পড়া ১৮০ বাংলাদেশী এরই মধ্যে বাংলাদেশে ফেরত এসেছেন। আরো যারা বাংলাদেশী সেখানে আছেন, তারা যদি আসতে চান, তাহলে ইরান সব ধরনের সহায়তা দেবে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প পালানোর পথ খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি। তিনি বলেন, ‘এ যুদ্ধে ইরান আগে কোনো আক্রমণ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ যুদ্ধ শুরু করেছে। তবে যুদ্ধের এক মাস যেতে না যেতেই ট্রাম্প পালানোর পথ খুঁজছেন।’

জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেন, ‘ওমানে যখন শান্তি আলোচনা চলছিল, একটি সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছিল, তখনই যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধ শুরু করে। আর ইরান আত্মরক্ষার জন্য এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।’

ট্রাম্প ইসরায়েলের ফাঁদে পা দিয়েছেন উল্লেখ করে জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আগে যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তিনি জায়নবাদী ইসরায়েলের ফাঁদে পা দেননি। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এ ফাঁদে পা দিয়েছেন। এখন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সকালে এক কথা, দুপুরে এক কথা আর রাতে আরেক কথা বলছেন।’

সুত্র:বণিক বার্তা