রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ

ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ৪৪
ছবি- রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের অভ্যন্তরে সৌদি আরব একাধিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা।

দুই পশ্চিমা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি বিমানবাহিনী মার্চের শেষ দিকে এসব হামলা চালায়। তাদের একজন বলেন, ‘সৌদি আরবের ওপর হামলার জবাব হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছিল।’

তবে নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

মন্তব্য জানতে চাইলে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলার বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

সৌদি আরব ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ১০ সপ্তাহব্যাপী এ যুদ্ধ দেশটিকে এমন হামলার মুখে ফেলেছে, যা মার্কিন সামরিক সুরক্ষাবলয় ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। সৌদি হামলাগুলো দেখিয়ে দিয়েছে সংঘাত এতটা বিস্তৃত হয়েছে যে প্রকাশ্যে স্বীকার না করা প্রতিশোধের মাধ্যমে নানা উপায়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জড়িয়ে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে জিসিসিভুক্ত ছয় দেশের সব দেশগুলোয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিই নয়, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও জ্বালানি তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বিঘ্ন সৃষ্টি করে তেহরান।

সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছিল।

তবে সৌদি আরব ও আমিরাতের কৌশল এক ছিল না। আমিরাত তুলনামূলক বেশি কড়া অবস্থান নেয় এবং ইরানকে হামলার খেসারত দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। এর পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে প্রকাশ্য কূটনৈতিক যোগাযোগ খুব সীমিত রাখে দেশটি।

অন্যদিকে সৌদি আরব সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করেছে এবং তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে, যার মধ্যে রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমেও যোগাযোগ ছিল। তবে তিনিও রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

ইরানের সঙ্গে কোনো উত্তেজনা প্রশমন চুক্তি হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে তিনি বলেন, ‘অঞ্চল ও এর জনগণের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে সৌদি আরব সবসময় উত্তেজনা কমানো, আত্মসংযম ও সংঘাত প্রশমনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।’

ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, ইরানকে আগেই হামলার বিষয়ে অবহিত করেছিল সৌদি আরব। এরপর শুরু হয় নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সৌদি আরব আরো কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দেয়। এর ফলেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে এক ধরনের সমঝোতা তৈরি হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, ইরানে সৌদি পাল্টা হামলার পর উত্তেজনা প্রশমনের সমঝোতা দেখায় যে ‘নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনা উভয় পক্ষের জন্যই অগ্রহণযোগ্য মূল্য ডেকে আনতে পারে— এ বাস্তবতা দুই পক্ষই বাস্তববাদীভাবে উপলব্ধি করেছে।’

তার ভাষায়, এটি পারস্পরিক আস্থা নয়, বরং সংঘাত আরো বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আগেই তার সীমা নির্ধারণে উভয় পক্ষের অভিন্ন স্বার্থ তুলে ধরে।