কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নামা উদ্বেগের: অর্থমন্ত্রী

আলোকিতপ্রজন্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ | ৫২

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১১ মে ) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা’-এর প্রথম আয়োজনে মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এক সময় দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১০-১১ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা কমে ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, এমনকি গোটা বিশ্বেও অন্যতম সর্বনিম্ন। কর-জিডিপি অনুপাতে প্রবৃদ্ধি না থাকলে এবং সম্পদ সীমাবদ্ধ থাকলে আর্থিক নীতি বাস্তবায়নের জায়গা কমতে থাকে। এর ফলে সরকার উন্নয়নমূলক বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণে সক্ষমতা হারায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ নাগরিকদের ওপর।’

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শুরু হওয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি ও রাজস্ব বিভাগকে আলাদা করার মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার ইঙ্গিত দেন তিনি।

দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, ‘বর্তমানে এই দুই খাতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না থাকলেও আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এ বিনিয়োগ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।’

শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে ‘স্কিলিং, রিস্কিলিং এবং আপস্কিলিং’-এর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের কর্মীরা বিদেশে নিম্নমানের কাজ করায় রেমিট্যান্স কম আসছে। দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারলে অর্ধেক জনবল দিয়েই বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ রেমিট্যান্স অর্জন সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৫ বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় ৪০-৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ উদ্দেশ্যে এখন থেকে প্রতিটি কারিগরি শিক্ষা ও ভোকেশনাল প্রজেক্টে আন্তর্জাতিক মানের ‘অ্যাক্রেডিটেশন ও সার্টিফিকেশন’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’

উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে অনিয়ম ও অপচয় রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্প কেবল দুর্নীতির উদ্দেশ্যে বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের কোনো উপকারে আসছে না।’

তিনি ঘোষণা করেন, ‘এখন থেকে যেকোনো বিনিয়োগ বা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে চারটি বিশেষ মানদণ্ড অবশ্যই পূরণ করতে হবে। প্রতিটি বিনিয়োগের বিপরীতে নিশ্চিত আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক প্রভাব থাকতে হবে।’

সুত্র:বণিক বার্তা