প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৪৪ পিএম, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬ | ৫৫

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজসংস্কারক প্রিন্সিপাল ইব্ররাহীম খাঁ-এর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে।

রোববার দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ আয়োজন করা হয়। বক্তারা তার শিক্ষা বিস্তারে অবদান, সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা এবং সাহিত্যকর্মের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ ছিলেন উপমহাদেশের একজন খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও পথিকৃৎ, যিনি জীবদ্দশায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে আলোকিত ধারা সৃষ্টি করেছেন। 

তিনি ভাষা আন্দোলন ও শিক্ষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দেশের শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদকসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন। 

প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর (বিরামদী) গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। ১৯১২ সালে তিনি পিংনা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স, ১৯১৪ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এফএ এবং কলকাতার সেন্ট পলস সিএম কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ (১৯১৬) পাস করেন। পরে তিনি প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯১৮সালে আইন বিষয়েও ডিগ্রি লাভ করেন। ইবরাহীম খাঁ ১৯১৯ সালে করটিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খাঁ পন্নীর অর্থ সাহায্যে করটিয়া সা’দত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর প্রথম প্রিন্সিপাল নিযুক্ত হন। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় করটিয়া সাদত কলেজ এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হিসাবে তিনি একটানা ২২ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯২০-১৯২২ সালে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইবরাহীম খাঁ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

১৯৪৬ সালে প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য এবং ১৯৫৩ সালে গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।   ১৯৪৮-১৯৫২ মেয়াদে পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। ১৯৪৮ সালে প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ এলাকার বিদ্যোসাহী ব্যক্তিগণের অনুরোধে ‘ভূঞাপুর কলেজ’ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৮ সালে তাঁর মৃত্যুর পর কলেজটির ‘ইবরাহীম খাঁ কলেজ’ নামকরণ করা হয়।  তিনি বিভিন্ন লেখায় মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের কথা বলেছেন। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনী ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাদিক। সেগুলির মধ্যে কামাল পাশা (১৯২৭), আনোয়ার পাশা (১৯৩৯), ঋণ পরিশোধ (১৯৫৫), আলু বোখরা (১৯৬০), ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র (১৯৫৪), বাতায়ন (১৯৬৭), ব্যাঘ্র মামা (১৯৫১) এবং বেদুঈনদের দেশে (১৯৫৬) প্রধান। তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন। নাটকে অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং সাহিত্যে ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৭৮ সালের ২৯ শে মার্চ খ্যাতনামা এই মানুষটি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।