ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার ইরানের ধর্মীয় নেতাদের পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে নির্বাচিত করে। বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনির ওপরই এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে তার ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকটের সময় নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব পড়েছে। খবর আল জাজিরা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিহত হন আলি খামেনি। সেই হামলাকে কেন্দ্র করেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে দাঁড়িয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরো রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে।
নতুন নেতা ঘোষণার পরপরই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তার প্রতি সমর্থন জানায়। দেশটির শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও তার নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি সবাইকে নতুন সর্বোচ্চ নেতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মোজতবা খামেনি কখনও নির্বাচনে অংশ নেননি বা জনভোটের মুখোমুখি হননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ পরিমণ্ডলের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে আইআরজিসির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও আলোচনায় দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির নির্বাচন ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর কঠোরপন্থী অংশের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান খুব দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় যেতে আগ্রহী নাও হতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচিত কেউ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। তবে ইরানের কর্মকর্তারা এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ কেবল ইরানের জনগণই নির্ধারণ করবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের মন্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘প্রিয় ইরানের ভাগ্য নির্ধারণ করবে গর্বিত ইরানি জাতি, বাইরের কোনো শক্তি নয়।‘
বিশ্লেষকদের মতে, আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলের এই নিয়োগ একদিকে যেমন নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র অটুট রয়েছে—তেহরান যেন সেটিই দেখাতে চাইছে।
