কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২২৪, এখনো নিখোঁজ আড়াই হাজারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ | ৪৪

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের দ্বিতীয়দিনে এসে ধসে পড়া ভবনের স্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। খবর এবিসি নিউজ।

গতকাল সোমবার ভোরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এ শক্তিশালী ভূমিকম্পে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির পশ্চিমাঞ্চল কেঁপে ওঠে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ক্যালি, কিবদো এবং পেরেইরা শহর।

ভূমিকম্পের পর প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ প্রিয়জনদের তথ্যের জন্য স্বজনরা নাগরিকদের পরিচালিত বিভিন্ন ওয়েবসাইটে তথ্য পোস্ট করছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে চোকো প্রদেশ। এটি কলম্বিয়ার অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সেখানকার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো অস্পষ্ট। এ রাজ্যের রাজধানী কিবদোর স্থানীয় কর্মকর্তা জেনি রিভাস জানিয়েছেন, শহরের সেবা খাত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

মোনিকা সানচেজ নামের এক নারী জানান, তার শহর পেরেইরা অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ভূমিকম্পে তার কারখানার ভেতরের একটি দেয়াল ধসে পড়েছে। তিনি এবং তার ১২ জন কর্মী কোনোমতে শেষ মুহূর্তে বাইরে বের হতে পেরেছিলেন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এটি খুবই ভয়াবহ ছিল—মনে হচ্ছিল আমাদের চারপাশের পুরো শহরটাই ধসে পড়ছে।

একই শহরের বাসিন্দা ও ট্যাটু শিল্পী আন্দ্রেস হার্নান্দেজ জানান, ভবনগুলো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় আতঙ্কে তিনি ঘুমাতে পারছেন না। ভয়াবহ সেই মুহূর্ত বর্ণনা করে তিনি বলেন, দৃশ্যটি একদম সিনেমার মতো ছিল; পিলার, ক্যাবলসহ সবকিছু দুলছিল। আমি আমার পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ভীষণ চিন্তিত।

এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় সময় সোমবার রাতে কিবদো সফর করেছেন প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলা। সেখানে তিনি উদ্ধার কাজে প্রকৌশলী, উদ্ধারকারী দল ও কুকুর মোতায়েনের পাশাপাশি পুরো সামরিক ও পুলিশ বাহিনীকে কাজে লাগানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, যেসব মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সংস্কার কাজ চলাকালীন তাদের জন্য ভাড়া সহায়তা দেয়া হবে।

একই সঙ্গে জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র, খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তার জন্য সাড়ে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোও সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে।