উপসাগরীয় সংঘাতকে সামনে রেখে যৌথ ঘোষণায় সম্মত ব্রিকস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৭৫

একটি যৌথ ঘোষণায় সম্মত হয়েছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকস। সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র আজ এ তথ্য রয়টার্সকে জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এ সমঝোতা হয়েছে। বৈশ্বিক পরিসরে জোটটির প্রভাব বাড়ানোই এবারের সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।

উপসাগরীয় সংঘাতকে কেন্দ্র করে জোটের দুই সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর মধ্যে বিভেদ দূর করার লক্ষ্যে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমন সময় এ সম্মেলন হচ্ছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে নতুন উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে।

এর আগে আগস্টের বড় একটি সময়জুড়ে লড়াইয়ে বিরতি ছিল। এসময় ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত করেছে।

চারটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচকরা এমন একটি যৌথ ঘোষণায় সম্মত হয়েছেন, যাতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ থাকার সম্ভাবনা কম। তবে এতে একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানানো হবে। আজই ব্রিকস নেতারা ঘোষণাটি অনুমোদন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ঘোষণাটি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞরা আগেই বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে এমন ভাষা নির্ধারণ করাই ব্রিকসের জন্য বড় পরীক্ষা হবে, যা আবুধাবি ও তেহরান—উভয় পক্ষই মেনে নিতে পারে। এমন সমঝোতা হলেই একটি যৌথ ঘোষণার পথ তৈরি হবে।

তাদের মতে, এ ধরনের যৌথ বিবৃতি বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় কোনো প্রভাব হয়তো ফেলতে না। তা সত্ত্বেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মতো অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়া নীতির বিরুদ্ধে উদীয়মান দেশগুলোর জোট হিসেবে ব্রিকসের ঐক্য তুলে ধরবে।

গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও কোনো যৌথ বিবৃতি দেয়া সম্ভব হয়নি। ইরান ও ইউএইর মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে তা আটকে যায়।

আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রভাব বাড়াতে চায় ব্রিকস

আন্তর্জাতিক নীতি প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার এবং বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো প্রতিষ্ঠান সংস্কারের দাবি জানিয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে ব্রিকস। জোটটির কয়েকটি সদস্য মনে করে, এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা শক্তির প্রভাব বেশি।

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ অন্য নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক থাকা নয়াদিল্লি এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছেন।

তবে তেহরান ও আবুধাবির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ নিয়ে বিভেদ দূর করা এবং সম্মেলনে একটি ঐকমত্যভিত্তিক ঘোষণা প্রকাশ করা ব্রিকসের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের জন্য তাৎক্ষণিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয় ইউএই। এর পর প্রতিক্রিয়ায় দেশটি গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে।

ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও ইউএই।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ২০০৯ সালে ব্রিকস গঠিত হয়। জোটের সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।