মার্কিন আদালতের রায়ের সাড়ে ৩ লাখ হাইতি নাগরিকের সুরক্ষা বহাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০৬ পিএম, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ | ৭৬

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

আদালত জানিয়েছেন, দেশটিতে বসবাসরত ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি হাইতি নাগরিকের আইনি সুরক্ষা বা টিপিএস (টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস) এখনই বাতিল করা যাবে না। এ রায়ের ফলে হাইতি নাগরিকরা আপাতত দেশটিতে থাকার বৈধ সুবিধা ও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। খবর রয়টার্স।

টিপিএস হলো একটি বিশেষ মানবিক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চরম অস্থিরতার শিকার দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে থাকার সুযোগ দেয়া হয়। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম এ কর্মসূচি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ সুরক্ষা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বা সাধারণ ক্ষমা হতে পারে না।

তবে বিচারক ফ্লোরেন্স প্যান ও ব্র্যাড গার্সিয়া তাদের রায়ে বলেন, বর্তমানে হাইতি চরম সংঘাত ও গ্যাং সহিংসতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হলে তারা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। সেখানে আইনের শাসন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব থাকায় তাদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ভিন্নমত পোষণকারী বিচারক জাস্টিন ওয়াকার মনে করেন, সরকারের এ সুরক্ষা বাতিল করার আইনি অধিকার রয়েছে।

২০১০ সালে হাইতিতে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর প্রথমবারের মতো দেশটিকে টিপিএস সুবিধার আওতায় আনে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দেশটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বারবার এ মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাইডেন প্রশাসনও এ সুরক্ষা বজায় রেখেছিল।

আদালতের এ রায়ের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবে। তাদের মতে, ‘সাময়িক মানে সাময়িকই’ হওয়া উচিত এবং এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে না। আপাতত এ আইনি লড়াই চলার সময় প্রায় সাড়ে তিন লাখ হাইতিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদে থাকার সুযোগ পাচ্ছে।