ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করল ভারত
প্রায় দুই দশকের আলোচনার পর অবশেষে ঐতিহাসিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৈশ্বিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষই বিকল্প কৌশল হিসেবে এ চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখছে। খবর রয়টার্স।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভন ডার লিয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা বর্তমানে দিল্লি সফর করছেন। নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাদের বৈঠক শেষে এ চুক্তি চূড়ান্ত হয়। মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘আমরা সফল। গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি হয়েছে।’ আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।
ইইউ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (মার্চ পর্যন্ত) ভারত ও ইইউর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, এ চুক্তির ফলে ভারতের বিশাল ও তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত বাজার ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য আরো উন্মুক্ত হবে।
ঐতিহাসিক এ চুক্তি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষ একে ‘মাদার অব অল ডিলস’ বলে অভিহিত করছে। যা ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ ও ইউরোপের লক্ষাধিক মানুষের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এ চুক্তির আওতায় পর্যায়ক্রমে রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং উড়োজাহাজ ও মহাকাশযানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেয়া হবে। অন্যদিকে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের প্রায় সব ধরনের রফতানি পণ্যই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ঢুকতে পারবে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, চামড়া, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প এবং রত্ন ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো বা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুরের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আগে ইইউ ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে। একই সময়ে ভারতও যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধারাবাহিক চুক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি পশ্চিমা জোটগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন।
