গাছে গাছে অতিথি পাখির কলতানে মুখর শাল-গজারির সখীপুর

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২ | ৩৪০

শীতের আগমনে অতিথি পাখির কলতানে মুখর হয়ে উঠেছে সখীপুরের বিভিন্ন এলাকা। গাছে গাছে আশ্রয় নিয়েছে অতিথি পাখি। প্রকৃতিতে লেগেছে নান্দনিক ছোঁয়া। উপজেলার বোয়ালী, নলুয়া, যাদবপুর, লাঙঙ্গুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন পাখিদের মেলা বসেছে। সবুজ গাছ-গাছালিতে সারা বছরই বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসতে দেখা যায়। কিন্তু শীতকালে বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির অগনিত পাখির  আগমন ঘটে এখানে।

এখন শীত মৌসুমে ভোরবেলা ও বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ এলাকার গাছে পাখি পড়ার দৃশ্য ও পাখির কিচির মিচির শব্দ মোহিত করে তুলেছে।

বিচিত্র পাখপাখালির মধুময় কলতানে প্রতিদিন মুখরিত হয়ে উঠছে এখানকার জনপদ। বছরজুড়ে হরেক রকম দেশিয় পাখির সমাবেশে সরব থাকলেও, শীতে যেন নতুন প্রাণ পায় এসব অঞ্চলের পাখিরা। এদের সঙ্গে যোগ দেয় পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চল থেকে আগত পাখির দল। প্রচন্ড শীত আর খাদ্য সংকটে অস্তিত্ব রক্ষায় হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে ছুটে আসে বাংলাদেশের মতো কম শীত প্রধান দেশগুলোতে। প্রতিবছর নভেম্বর মাসে হিমালয়ের উত্তরে অবস্থিত শীত প্রধান দেশগুলো যেমন সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, হিমালয় অঞ্চলের প্রচন্ড শীত ও ভারি তুষারপাতে টিকতে না পেরে পরিযায়ী পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে নাতিশীতোষ্ণ প্রধান অঞ্চলগুলোতে চলে আসে।

নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল হওয়ায় বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য প্রজাতির পাখির আগমন ঘটে। শীতের রেশ কেটে গেলেই বসন্তের সময়টাতে এসব পরিযায়ী পাখি আবারও তাদের চিরচেনা ভূমিতে ফিরে যায়। 

তরুণ কবি শাহাদাত আজিজ বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রতীক পাখি। সকাল-সন্ধ্যায় কিচিরমিচির শব্দে জেগে ওঠে গ্রাম-শহর। পাখিদের দখলে পুরো আকাশ যে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গাছে গাছে শোভা পায় হরেক রকম পাখি। প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আর এ জন্যই গাছ, পাখি, প্রকৃতি মিলে একাকার আমাদের এই জন্মভূমি। পরিবেশের ভারসাম্য  রক্ষায় প্রজন্মের আপাদমস্তকে শোভা পাক বসবাস যোগ্য একটি রাষ্ট্র, জাতি, দেশ। তাই অতিথি পাখিদের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

মজিবর রহমান নামে নলুয়া আালিয়া পাড়ার বাসিন্দা বলেন, অতিথি পাখির কিচির-মিচির শব্দ, ডানা ঝাপটানো, গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালে উড়ে যাওয়া যেন প্রকৃতিতে একেবারে হারিয়ে যাওয়া। প্রকৃতির এ দৃশ্য যারা দেখেননি তারা বুঝবেন না এর আনন্দ। পাখিদের অবিরাম খুনসুটি, ডানা ঝাপটে দলবেঁধে উড়ে চলা দেখতে দেখতে কখন যে সন্ধ্যা নামে তা টেরই পাওয়া যায় না।’’ নানা রঙের অতিথি পাখির মেলা বসেছে এ অঞ্চলে শাল-গজারিসহ বিভিন্ন গাছে গাছে ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম জানান, বোয়াালী গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় হাজার হাজার অতিথি পাখি এসেছে। এদের যাতে কেউ শিকার বা ক্ষতি করতে না পারে এজন্য আমি স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি এবং সচেতন করে যাচ্ছি। 

এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী ফারজানা আলম বলেন, ‘শীতের শুরুতে সখীপুরের বিভিন্ন জায়গায় অতিথি পাখির আগমন শুরু হয়েছে। কেউ অতিথি পাখি নিধন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’