জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মানে কাজ করতে হবে ঐক্যবদ্ধ ভাবে

মোহাম্মদ কানিছুর রহমান
প্রকাশিত: ০৮:১৯ পিএম, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০ | ৮০২
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির সাথে একটি নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের সাথে যাঁর ছিল হৃদয়ের বন্ধন। বাংলাদেশের জন্মের সাথে বা বাংলার ইতিহাসের পাতায় পাতায় যে নামটি জড়িত তিনি আর কেউ নন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে তিনি বিচরণ করছেন এক প্রস্ফুটিত গোলাপ হয়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি দেশের স্বার্থে ও জনগণের স্বার্থের জন্য নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন।

বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রের মানুষ বাংলাদেশকে চিনে মুজিবের বাংলাদেশ হিসেবে। তাই বলতে হয় একজন মানুষ তার দেশকে বুকের মধ্যে এমনভাবে আকরে ধরেছিলেন যে, তার হৃদয় জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। অন্তরে ধারণ করেছিলেন বাংলাদেশকে। এক অর্থে বলা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইতিহাস জানলেই বাংলাদেশের ইতিহাস জানা হয়ে যাবে। তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড জানলেই আমরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম ইতিহাস জানতে পারব।

সমস্ত পৃথিবীতে শাসক আর শোষিত দুটি শ্রেণি বিরাজমান। তিনি সব সময়ই শোষিতের পক্ষে ছিলেন। বিশ্বের যেখানেই শোষণ আর বঞ্চনা ছিল, তিনি তাদের পক্ষে কথা বলেছেন। তাই তিনি হয়েছেন ইতিহাসের একজন রাখাল রাজা। পাকিস্তানি শাসক ও শোষক গোষ্ঠির হাত থেকে বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন, চেয়েছেন বাঙালী জনগোষ্ঠিকে এ শৃংঙ্খল থেকে মুক্ত করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে।

শৈশবে পিতা-মাতার দেখানো সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আদর্শ ধারণ করেছিলন। সেই পথেই চলেছেন আজীবন। তাই তো কিশোর বয়সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে হয়ে উঠেন প্রতিবাদি। অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলতে বলতে এক সময় হয়ে উঠেন স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। শোষিত বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কথা বলার কারণে তিনি শুধু দেশ নয় সারা বিশ্বে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিতি জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-এর সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন “বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত, এক পক্ষ শোষক আরে পক্ষ শোষিত”। আমি শোষিতের পক্ষে “জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন” জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও শোষিত মানুষের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বিশ্বের শোষিত নির্যাতিত মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নিজেদের একজন হিসেবে গ্রহণ করে নেন। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে উঠেন বিশ্বের বঞ্চিত মানুষের নেতা।

মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে মানুষের মতামতের গুরুত্ব দিতে গিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে সর্বদা তিনি ছিলেন সোচ্চার। তাই তো বায়ান্ন’র রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্ন’র যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন, আটান্ন’র সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বাষট্টি’র শিক্ষা আন্দোলন, ছিষট্টি’র ৬দফা আন্দোলন, ঊনসত্তুর’র গণঅভ্যূত্থান, সত্তর’র নির্বাচন, একাত্তর’র মুক্তিযুদ্ধসহ  প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নেতৃত্বের ভূমিকায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধিকার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। গণতান্ত্রিক অধিকারের আদায়ে সর্বদা তার ছিল বজ্রকণ্ঠ। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধিকার আন্দোলন এবং স্বাধীনতার পক্ষে একটি দলিল।

মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে বাংলার মানুষকে বুকে ধারণ করে বলতে পেরেছিলেন “তোমরা আমার ভাই, তোমার আমার বোন” তাঁর এই আপন করার শক্তি বাংলার মানুষকে এক কাতারে মিলিত করতে পেরেছিল। যা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের সাথে বঙ্গবন্ধুর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাইতো অন্নদা শঙ্কর রায় সাজিয়েছেন তার শব্দগুচ্ছ-

যতদিন রবে পদ্মা-যমুনা-গৌরী-মেঘনা বহমান

ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য, একটি স্বাধীন ভূ-খন্ডের জন্য বঙ্গবন্ধুর জীবনের সুন্দর মূহুর্তগুলো কেটেছে কারাগারের অন্ধকার কুটিরে জীবনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন দেশের জন্য, দেশের মাটি ও মানুষের জন্য। মা, মাটি ও মানুষের জন্য চরম বিপদের মুখেও তিনি নির্ভীক চিত্তে উচ্চারণ করেছেন দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১২:২০ মিনিটে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার মাধ্যমে হ্যামিল্টনের বংশীবাদকের মতো সমগ্র জাতি এক সূত্রে গঁথিত হয়। তাই তো তার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় নতুন একটি রাষ্ট্র বাংলাদেশ। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে উঠেন জাতির জনক।

তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে শোষণ মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিনির্মান করতে দেশের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। গড়ে তুলতে হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা।