কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়
কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশন এখন খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনিয়মিত জীবনযাপন, ফাস্টফুড বেশি খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং আঁশযুক্ত খাবারের অভাব-এসব কারণেই অনেকেই নিয়মিত এই সমস্যায় ভোগেন। দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, অর্শ কিংবা হজমের নানা সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এই সমস্যার ঘরোয়া সমাধান হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ইসবগুলের ভুসি। তবে অনেকেই এর স্বাদ বা আঠালো ভাবের কারণে এটি খেতে চান না। সুখবর হলো, রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি সহজলভ্য উপাদান দিয়েও কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে স্বস্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কয়েকটি কার্যকর উপায়।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কালো কিশমিশ অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর দ্রবণীয় ফাইবার, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে সাহায্য করে এবং মলকে নরম করে। রাতে ঘুমানোর আগে ১০-১২টি কালো কিশমিশ ভালোভাবে ধুয়ে এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি হালকা গরম করে খালি পেটে পান করুন এবং কিশমিশগুলো ভালোভাবে চিবিয়ে খান। কয়েকদিন নিয়মিত করলে অনেকের ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যায়।
আয়ুর্বেদে আমলকী, হরিতকী ও বহেড়ার সংমিশ্রণ অর্থাৎ ত্রিফলাকে প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি অন্ত্রের কার্যক্রম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে এবং মলত্যাগ সহজ করে।
রাতে খাবারের অন্তত এক ঘণ্টা পরে বা ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চা-চামচ ত্রিফলা চূর্ণ মিশিয়ে পান করতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
গরম দুধ ও খাঁটি ঘির মিশ্রণ আয়ুর্বেদে বহুদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘি অন্ত্রকে মসৃণ রাখতে সাহায্য করে, ফলে মল সহজে বের হতে পারে।
রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে এক চা-চামচ খাঁটি গাওয়া ঘি মিশিয়ে পান করতে পারেন। যাদের দুধ হজমে সমস্যা হয় বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তারা এই পদ্ধতি এড়িয়ে চলবেন।
লেবুর রস ও কুসুম গরম পানি
সকালের শুরুতে কুসুম গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস পান করাও একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া উপায়। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করতে সহায়ক হতে পারে। ১ গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস ও সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করতে পারেন। এটি হজমেও সহায়তা করতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে শুধু ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর করলেই হবে না। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, আঁশসমৃদ্ধ ফল, শাকসবজি ও ডাল খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যদি দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, তীব্র পেটব্যথা, মলত্যাগের সময় রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে ঘরোয়া উপায়ে সময় নষ্ট না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, হেলথ লাইন
