বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য প্রস্তুত মেটলাইফ স্টেডিয়াম

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৫৯ পিএম, রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ | ৪৮

আর কিছুক্ষণের অপেক্ষা। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নাটকীয় লড়াইয়ের পর বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের নিউজার্সি অঞ্চলের মেটলাইফ স্টেডিয়াম অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিরোপা নির্ধারণী এ ম্যাচ।

বাইরে থেকে দেখলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে অন্য স্টেডিয়ামগুলোর মতোই একটি আধুনিক স্টেডিয়াম মনে হতে পারে। তবে ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি শুধু মাঠ নয়, বরং প্রায় ২১ লাখ বর্গফুটের বিশাল এক সাম্রাজ্য। এ স্টেডিয়ামে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের আজকের আয়োজন দেখতে টিকিট কেটেছেন সাড়ে ৮২ হাজার দর্শক।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ফাইনালকে ঘিরে সেই দাম আকাশ ছুঁয়েছে। গতকাল শনিবার ফিফার অফিসিয়াল টিকিটিং ওয়েবসাইটে গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারির সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য ছিল ৬ হাজার ৪১১ দশমিক ২৫ ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮ লাখ টাকা। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

এরপর সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য প্রায় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছে যায়। স্টেডিয়ামের আপার ডেকের কর্নার অংশের এসব টিকিটের দাম পড়েছে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকা। আর মাঠের কাছাকাছি আসনের টিকিট কিনতে গুনতে হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার। আর বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিটের মূল্য উঠেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকার সমান।

অন্যদিকে টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম সিটগিক ও স্টাবহাবেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে আপার ডেকের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। লোয়ার বোলের কিছু আসনের মূল্য ছুঁয়েছে ৩৫ হাজার ডলার।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ ম্যাচ দেখতে এরই মধ্যে স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড় করছেন ফুটবল সমর্থকরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। পাশাপাশি এটি বিশ্বকাপে মেসির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ বলেও ধরা হচ্ছে। এ কারণে ম্যাচ দেখতে আসা সমর্থকদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি উৎসাহ।

এ ম্যাচ দেখতে আজ স্টেডিয়ামে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ম্যাচ শুরুর ঠিক এক ঘণ্টা আগে ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। আকাশ, স্থল এবং স্টেডিয়ামের প্রতিটি কোণে গড়ে তোলা হয়েছে বহুস্তরের নিরাপত্তা বলয়। মার্কিন সরকার এ ম্যাচকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, সিক্রেট সার্ভিস, স্থানীয় পুলিশ এবং একাধিক ফেডারেল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রায় ৩০ লাখ দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসবাদ, ড্রোন হামলা, সাইবার আক্রমণ এবং জননিরাপত্তাসহ নানা ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক কর্মকর্তা গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামে আসা সমর্থকদের বিমানবন্দরের মতো কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ম্যাচ শুরুর পাঁচ ঘণ্টা আগেই আকাশপথে হেলিকপ্টার টহলসহ হাজার হাজার সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।

স্টেডিয়ামের সামনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় সময় আজ সকাল ৮টা থেকেই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মী ও সাংবাদিকেরা বিশাল লাইন ধরেছেন। সকাল ৯টায় গেট খোলার সময় সেই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। তাদের মাত্র একটি পথ দিয়ে ভেতরে পাঠানো হচ্ছে। এরপর তাদের ছয়টি এয়ারপোর্ট স্ক্যানারে পার হয়ে ব্যক্তিগত শরীর তল্লাশির জন্য আরেকটি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

নিরাপত্তা রক্ষার এ প্রক্রিয়া থেকে বাদ যাচ্ছেন না তারকারাও। এ আসরে জার্মান স্ট্রিমিং সার্ভিস ‘ম্যাজেন্টা’র বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ম্যাচ দেখতে আসা বেশিরভাগ দর্শকেও এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে হবে। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৮২ হাজার দর্শককের প্রত্যেককেই তল্লাশির এ দীর্ঘ লাইন পার করতে হবে।