মুক্তিপ্রাপ্তদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ইয়াঙ্গুন শহরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত ইনসেইন কারাগারের প্রধান ফটকের বাইরে সকাল থেকেই বন্দিদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা অপেক্ষা করছিলেন।
মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার এক সপ্তাহ পর সাধারণ ক্ষমার এ ঘোষণা এসেছে। সমালোচকদের মতে, এ নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু ছিল না। এটি সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আরো দৃঢ় করতে আয়োজিত হয়েছিল।
অভিষেক ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেছিলেন, তার সরকার সামাজিক পুনর্মিলন, ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক সাধারণ ক্ষমা বাস্তবায়ন করবে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানিয়েছে, ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে ক্ষমা করা হয়েছে এবং প্রায় ১৮০ জন বিদেশীকে মুক্তি দিয়ে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, মুক্তিপ্রাপ্ত কেউ যদি আবার অপরাধ করে, তবে তাকে তার আগের সাজা এবং নতুন অপরাধের সাজা—দুটিই ভোগ করতে হবে।
আলাদা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা হয়েছে, যাবজ্জীবন সাজা ৪০ বছরে কমানো হয়েছে এবং ৪০ বছরের কম সাজা থাকলে তা এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হবে। এ নিয়ম অনুযায়ী অং সান সু চির ২৭ বছরের সাজা থেকেও সাড়ে ৪ বছর কমে যাবে।
মিয়ানমারে উৎসব ও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে বন্দি মুক্তি দেওয়া সাধারণ একটি প্রথা।
রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায় ৮ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত এবং অং সান সু চিসহ প্রায় ২২ হাজার ১৭০ জন রাজনৈতিক বন্দি এখনো কারাগারে রয়েছেন। চলমান সংঘাতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।