গ্রিন কার্ড বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির দুই আত্মীয় গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৩১ পিএম, রোববার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ | ৬৮

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির ভাতিজি ও তার মেয়েকে আটক করার তথ্য দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। গতকাল এক বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ড) মর্যাদা বাতিল করেছেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন হামিদেহ সোলাইমানি আফশার ও তার মেয়ে। খবর বিবিসি।

তবে সোলাইমানির মেয়ে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বাবার ‘কোনো ধরনের সম্পর্কই নেই’।

কাসেম সোলাইমানি ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডারদের অন্যতম। ২০২০ সালে ইরাকে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন তিনি। ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে রুবিও জানান, দুই নারী বর্তমানে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে আছেন এবং তাদের দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরো বলেন, সোলাইমানি আফশার ও তার মেয়ে গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে ‘যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসী জীবনযাপন’ করছিলেন।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, সোলাইমানি আফশার ২০১৫ সালে পর্যটক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। ২০১৯ সালে তিনি আশ্রয় পান এবং ২০২১ সালে গ্রিন কার্ডধারী হন।

২০২৫ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় জানান, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর চারবার ইরান সফর করেছেন তিনি। ডিএইচএস বলেছে, ‘সফরগুলো প্রমাণ করে যে তার আশ্রয়ের দাবি ছিল প্রতারণামূলক।’

ডিএইচএস আরো জানায়, আফশারের মেয়ে সারিনা সাদাত হোসেইনি ২০১৫ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরে ২০১৯ সালে আশ্রয় ও ২০২৩ সালে গ্রিন কার্ড পান।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, সোলাইমানি আফশার ‘ইরানের স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী সরকারের একজন সরব সমর্থক’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইরানি সরকারের প্রচারণা’ চালিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশ না করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তার স্বামীকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কাসেম সোলাইমানির মেয়ে নারজেস সোলাইমানি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের সঙ্গে শহীদ সোলাইমানির কোনো সম্পর্ক নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এতটাই দুর্বল ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে যে একজন মহান ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প তৈরি করছে।’

এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তাদের নতুন করে আর কিছু বলার নেই।

সোলাইমানি ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক অভিযান পরিচালনা করতেন।

৬২ বছর বয়সী এ জেনারেল বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় নিহত হন। একই ঘটনায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর কয়েকজন নেতাও নিহত হন।

গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সোলাইমানির প্রসঙ্গ টেনে আনেনন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমার প্রথম মেয়াদে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছি। তিনি ছিলেন এক দুষ্ট প্রতিভা। মেধাবী কিন্তু ভীষণ খারাপ ব্যক্তি…। রাস্তার পাশে পেতে রাখা বিস্ফোরকের (রোডসাইড বম্ব) জনক।

তিনি আরো বলেন, ‘সোলাইমানি জীবিত থাকলে এ যুদ্ধে ইরান হয়তো অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারত।’