মানবাধিকার রক্ষা ও গুম সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আলোকিতপ্রজন্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৫২ পিএম, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ | ৪৩
ছবি-বণিক বার্তা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানবাধিকার রক্ষা এবং গুম সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। জাতির ওপর কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে তা ভালো ফল বয়ে আনে না।

আজ বুধবার বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে নাগরিক প্লাটফর্ম-রিফর্ম ওয়াচের উদ্যোগে এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্মের আয়োজনে 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা' বিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

৩০ দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাসের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এ অধ্যাদেশগুলো পাস করতে হয়, অন্যথায় সেগুলো বাতিল হয়ে যায়। এখানে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো এ ৩০ দিন বলতে ক্যালেন্ডার দিনকে বোঝানো হয়েছে, কার্যদিবস নয়; অর্থাৎ ছুটির দিনগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি, ঈদের ছুটি, স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যকর সময় পাওয়া যাবে মাত্র ১৫ দিনের মতো। এ অল্প সময়ে গড়ে প্রতিদিন চারটি করে অধ্যাদেশ পাশ করা মন্ত্রণালয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রক্রিয়াগত জটিলতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিটি অধ্যাদেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বিল আকারে উত্থাপন, বিশেষ কমিটিতে প্রেরণ এবং তিনটি রিডিং বা পাঠের মধ্য দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে অনেকগুলো অধ্যাদেশ হয়তো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, যা পরবর্তীতে আবার বিল আকারে সংসদে আনতে হবে।

তবে এর মধ্যে কিছু কিছু অধ্যাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করার বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক ইশতেহার এবং ৩১ দফায় সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে । মানবাধিকার কমিশনের অর্ডিন্যান্সটি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এছাড়া 'গুম কমিশন' সংক্রান্ত আইনে কিছু ভুলভ্রান্তি এবং 'সুপিরিয়র লায়বিলিটি' (উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা) নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে, যা আরো নিবিড়ভাবে স্টাডি করা প্রয়োজন। তিনি নিজেও অতীতে নির্যাতনের ভিক্টিম হিসেবে দেশে কোনো 'গুম সংস্কৃতি' বা মানবাধিকার লঙ্ঘন দেখতে চান না বলে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন ।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বা ‘ফ্লোর ক্রসিং’ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মন্ত্রী বলেন, চারটি ক্ষেত্র ছাড়া এটি সংশোধনের পক্ষে আজ সরকারি দলের সংসদীয় সভায় ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

সামাজিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানবাধিকারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্য থাকলেও বাংলাদেশের সামাজিক, ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত প্রেক্ষাপটকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্ক করেন । মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা বজায় রাখতে গিয়ে ডিফেন্স ফোর্সেস বা প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অনেক সময় বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হয়। মানবাধিকারকে শতভাগ সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে যদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাত বেঁধে দেয়া হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে ।

তিনি বলেন, এলজিবিটিকিউ ইস্যুসহ অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়। আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় যে আচার এবং ট্র্যাডিশন আছে, তাতে ওভারনাইট আমরা শতভাগ অর্জন করতে পারব না। সেজন্য আমাদের সময় দিতে হবে।

সুত্র:বণিক বার্তা