মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ওমরাহ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:২১ পিএম, রোববার, ৮ মার্চ ২০২৬ | ৮৫

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া হাজার হাজার মুসলিম তীর্থযাত্রী আটকা পড়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথ অনিরাপদ হয়ে পড়ায় অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ এখন নিজ দেশে ফেরা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাদের অনেকেই এখন দেশে ফেরার বিকল্প পথ খুঁজছেন। অন্যদিকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনেকে তাদের পূর্বপরিকল্পিত ওমরাহ যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। খবর এপি।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিকরা। ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ বিষয়ক উপমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমানজুন্তাক জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৬০ জন ইন্দোনেশীয় হাজি সৌদি আরবে আটকা পড়ে আছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ আবাসন ও যাতায়াত খরচ নিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। ইন্দোনেশিয়া সরকার বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে আটকে পড়া এই যাত্রীদের হোটেল ভাড়া ও অতিরিক্ত টিকিটের খরচ কমানো যায়।

এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে আরো প্রায় ৬০ হাজার নাগরিককে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত ওমরাহ যাত্রা পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি। বিষয়টিকে একটি জরুরি মানবিক ও লজিস্টিক সংকট হিসেবে দেখছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।

অন্যদিকে মালয়েশিয়ার জেদ্দায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ জারাইফ রাজা আব্দুল কাদির জানিয়েছেন, প্রায় ১ হাজার ৬০০ মালয়েশীয় ওমরাহ যাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন। তাদের সহায়তার জন্য জেদ্দায় ২৪ ঘণ্টার একটি অপারেশন রুম খোলা হয়েছে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স জেদ্দা ও মদিনা থেকে বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় এ প্রক্রিয়া বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।

আটকে পড়া হাজিদের জন্য এটি কেবল একটি ভ্রমণ সমস্যা নয়, বরং মানসিক ও আর্থিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানিরাহ ফারিস নামে একজন ইন্দোনেশীয় হাজি জানান, তার ফিরতি ফ্লাইট বাতিল করে ১২ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সবার পক্ষে দীর্ঘদিন হোটেলে থাকার অতিরিক্ত খরচ বহন করা সম্ভব নয়। এছাড়া বাড়িতে সন্তানদের জন্য তার দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান থেকে ওমরাহ করতে যাওয়ার কথা ছিল জাভেদ খিজার ও তার পরিবারের। কিন্তু তুরস্ক ও কাতার হয়ে ভ্রমণের ঝুঁকি এড়াতে তিনি শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যমে পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। রমজান মাসে ওমরাহ পালনের সুযোগ আবার কবে আসবে তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

সৌদি আরবে বর্তমানে অবস্থানরত অনেক হাজি জানিয়েছেন, পবিত্র স্থানগুলোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও ফিরতি পথ নিয়ে তারা বেশ শঙ্কিত। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যরা যারা দেশে আছেন, তাদের আশ্বস্ত করা এবং প্রতিদিন ফ্লাইটের আপডেট চেক করা এখন তাদের নিয়মিত কাজে পরিণত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এই অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে কেবল এই অঞ্চলের মানুষের জন্যই নয়, বরং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর পবিত্র ওমরাহ বা আসন্ন হজ্জ পালনের পথেও বড় বাধা ও অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের দ্রুত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।