তারেক রহমানকে মোদির শুভেচ্ছা, ভারত সফরের আমন্ত্রণ
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল তার পাঠানো চিঠি তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছেন সে দেশের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। চিঠিতে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সুবিধাজনক দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এদিকে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়া তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। এছাড়া তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
সাক্ষাৎ নিয়ে বিড়লা আরো লিখেছেন, ‘ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে আমি আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরো গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
গতকাল পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদান কয়েক দশক পুরনো।’
লি কিয়াং স্মরণ করেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫১ বছর ধরে বেইজিং ও ঢাকা ধারাবাহিকভাবে একে অন্যকে সম্মান করেছে, সমতার ভিত্তিতে আচরণ করেছে এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা ও উইন উইন ফলাফলের পথে অগ্রসর হয়েছে, যা তার ভাষায় রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ তৈরি করেছে।
চীনের প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে তার সরকার সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে সমর্থন করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে লি কিয়াং বলেন, তিনি দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব এগিয়ে নেয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা জোরদার করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদান-প্রদান সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যৌথ প্রচেষ্টায় চীন-বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য আরো বেশি সুফল বয়ে আনবে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার জন্য টোকিওর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
গতকাল এক শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টার ধারাবাহিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং ঢাকার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য জাপানের প্রস্তুতির কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন, জাপান ও বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’র ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার ও সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপান অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দুদেশের জনগণের মধ্যে আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে।
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গতকাল এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি আমার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও অর্থবহ যোগাযোগের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।’
শাহবাজ শরিফ আরো বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদার করতে তিনি আগ্রহী। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরো গভীর করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট, উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।
সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি ও উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।
