৪৫ বছরেও অবকাঠামগত উন্নয়ন হয়নি টাঙ্গাইল বাস টার্মিনালের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬৭
১৯৮১ সালে ৬ একর জায়গার উপর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও এই টার্মিনালের আর নতুন করে কোন অবকাঠামগত উন্নয়ন হয়নি।
 
টাঙ্গাইল শহর বেড়েছে, স্ট্যান্ডে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে, গাড়ির রুট বেড়েছে, কিন্তু বাড়েনি নতুন বাসটার্মিনালের জায়গার পরিমাণ। ফলে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা জুড়ে গাড়ির জট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন রুটের লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস। ফলে জনদুর্ভোগ কমছেই না।
বিশেষ করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ রুটে ফিটনেস বিহীন প্রান্তিক গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি এবং সেবার মানও খুবই খারাপ বলে অভিযোগ বাস যাত্রীদের।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাস টার্মিনালের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সারি সারি লক্কর-ঝক্কর মার্কা প্রান্তিক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এদের অধিকাংশই সড়কে চলাচলের জন্য অনুপযোগী বলে অভিযোগ রয়েছে। 
প্রান্তিক গাড়ির চালক রুবেল ও আলমাস বলেন, "মালিক যে গাড়ি দেয় আমরা তাই চালাই। ফিটনেস বিহীন লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ির জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকেরা।" তবে তারা স্বীকার করেন প্রান্তিক পরিবহনে অধিকাংশ গাড়ি ফিটনেস বিহীন।
 
ঢাকা রুটে চলাচলকারী নিরালা পরিবহনের যাত্রী সৃষ্টি একাডেমিক কলেজের ইন্টার প্রথম বর্ষের ছাত্র হাসান ও ধলেশ্বরী পরিবহনের যাত্রী এএসআই শাজাহান বলেন, "গাড়ির সিট গুলো ভালো না। ছারপোকায় ভরা। গাড়ির সিট গুলো আরেকটু আধুনিকায়ন করলে ভালো হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে গাড়িগুলো ছাড়ে এবং পৌঁছায়। সিটিং সার্ভিস হলেও বিভিন্ন স্পটে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলেন। এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।"
 
টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনি বাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, "আমি দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন রুট থেকে লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাস অপসারণ ও যানজট নিরসনে মালিক সমিতির পক্ষে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়াও নিরালা বাস কাউন্টারের জন্য নতুন করে জায়গার ব্যবস্থা করেছেন তারা।"
 
তিনি আরও বলেন, "যাত্রীরা গাড়িতে নিরাপত্তা চায়, পরিবহন যেমনই হোক তারা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেই বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সরকারের পক্ষ থেকে নিরালা পরিবহনের কাউন্টার উচ্ছেদ করার পর আমরা দায়িত্ব নিয়েই নিরালা পরিবহনের জন্য নতুন কাউন্টারে জায়গার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও নতুন বাস স্ট্যান্ডে যানজট নিরসনে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি।"
 
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, "শহরে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত সিএনজি, অটো রিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলাচল করছে। বিশেষ করে অটো রিক্সা গুলো যেন দুই শিফটে চলাচল করে এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণ সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই অটোরিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা দ্বারা সৃষ্ট শহরে যানজট দ্রুতই নিরসন হবে। শহরের যানজট কমলে, নতুন বাসস্ট্যান্ডের যানজট অটোমেটিক কমে আসবে। তবে একটু সময় লাগবে।"
 
১৯৮১ সালে ৬ একরে শুরু হওয়া টার্মিনাল আজ ২০২৬ সালেও একই জায়গায়। শহর ও যাত্রী বেড়েছে, কিন্তু অবকাঠামো আটকে আছে সেই পুরনো ফ্রেমেই। ফিটনেসবিহীন বাস, অতিরিক্ত অটো-সিএনজি আর জায়গার সংকট মিলিয়ে টাঙ্গাইলবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই। 
 
যাত্রীদের দাবি, দ্রুত টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।