জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধীদলের নোটিশ, সংসদে বির্তক

আলোকিতপ্রজন্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৭ পিএম, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬ | ৫৪

জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে নোটিশ দিয়েছে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রস্তাবটি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের কাছে তুলে ধরেন। তবে নোটিশ তুলে ধরা নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে বির্তকের সৃষ্টি হয়।

আজ রোববার সংসদে সরকারিদল ও বিরোধীদলের মধ্যে এ বিতর্ক হয়েছে। অধিবেশনের প্রথম পর্বে প্রশ্নোত্তর শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নোটিশটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং এটি নিয়ে আলোচনা করার দাবি জানান। কিন্তু সরকারিদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আগে প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি অনুসারে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের পর এ নোটিশের ওপর আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে সংসদের চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি জানান, প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি শেষে নোটিশের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এসময় সংসদ সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনা শেষে বিরোধীদলের আনা নোটিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।

পরে নামাজের বিরতিতে যায় সংসদ সদস্যরা। বিরতি শেষে পুণরায় অধিবেশন বসে। পরে বিরোধীদলীয় নেতা নোটিশটি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, ১৫ মার্চ তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে একটি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছিলেন। স্পিকার পরামর্শ দিয়েছিলেন নোটিশ আনার জন্য। তারা সেটা করেছেন। তিনি এ নোটিশ সংসদে উত্থাপন করলেন। তিনি নোটিশটি গ্রহণ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়ে আলোচনার দাবি জানান।

এরপর ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর ও বিধি-৭১–এর নোটিশের আলোচনা শেষে অন্য বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। জবাবে বিরোধদলীয় নেতা বলেন, প্রশ্নোত্তরের পরেই এ আলোচনা হবে। তিনি সে মোতাবেকই দাঁড়িয়েছেন। এরপর ফ্লোর নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তখন বিরোধীদলের সদস্যরা আপত্তি জানান। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কথা বলার সুযোগ দেন স্পিকার। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। সরকারি দল বিধি মোতাবেক আলোচনার সুযোগ দেয়ার পক্ষে। রীতি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধির পর মুলতবি প্রস্তাব আলোচনা হতে পারে। তখন সরকারিদলও পয়েন্ট অব অর্ডারে কিছু কথা বলবে। তিনি স্পিকারকে বিধি মোতাবেক এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এক পর্যায়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে কীভাবে এ সংসদ গঠিত হয়েছে, তা সবাই ভুলে যাচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হয়েছিল। কিন্তু এখন কার্যক্রম দেখলে মনে হয়, এ ধরনের কিছুই হয়নি। এটি সবচেয়ে বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ, এ সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত, এর সুরাহা হওয়া উচিত। তারপর নিয়মিত সব কার্যক্রম হওয়া উচিত। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বিধি মোতাবেকই নোটিশ দিয়েছেন। সেটা নিয়ে আগে আলোচনা করার অনুরোধ করেন তিনি।

তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, স্পিকার চাইলে অনুমতি দিতে পারেন। কিন্তু প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এগুলো সংসদ সদস্যদের অধিকার। এ দুটি কার্যসূচির জন্য ২ ঘণ্টা বরাদ্দ। এরপর অন্য সব বিষয়ে আলোচনা আসতে পারে। তাদের দিক থেকে অসুবিধা নেই।

পরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তিনি বিরোধীদলের নোটিশটি পেয়েছেন। তিনি এটা অ্যাড্রেস করবেন। সংসদের রীতি মেনে বিধি-৭১–এর নোটিশগুলো নিয়ে আলোচনা শেষে তিনি বিরোধী দলের আনা নোটিশটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় এ সংসদ নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করার কথা। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে, নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তিদের একই দিন দুটি শপথ নেয়ার কথা। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সরকারিদল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। শপথ গ্রহণের পর সরকারিদলের সমালোচনা করে প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতারা। তবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা দুটি শপথই নিয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

সুত্র:বণিক বার্তা