টাঙ্গাইলের দুই মন্ত্রীর শপথ গ্রহণ
টাঙ্গাইলের নবাগত দুই মন্ত্রী পেলেন ছয় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আজ (মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ছয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তারা ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। একইসঙ্গে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এতে উচ্ছ্বসিত জেলার সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়াও ফকির মাহবুব আনাম স্বপন মন্ত্রী ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজ করিম।
জেলার প্রবীণ নেতা কর্মীরা জানান, ১৯৯০ সালের রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে টাঙ্গাইল সদর থেকে মাহমুদুল হাসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তৎকালীন সময়ে জেলায় তিনজন মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও সদরে কোন মন্ত্রী ছিলো না। প্রায় ৩৬ বছর পর টাঙ্গাইল সদর আসন থেকে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর ও ধনবাড়ী) আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ হেল কাফী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৪ হাজার ৪৫২ ভোট পেয়েছেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আহসান হাবিব মাসুদ পান ৮০ হাজার ২৮৩ ভোট।
এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে প্রায় ৩৫০টি মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ১২ দফা কারাভোগ করেন। এ সময় টুকু মোট প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন এবং টানা ৪৬ দিন রিমান্ডেও থাকতে হয়েছে তাকে।
