দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলে

হেভিওয়েট প্রার্থীসহ ১৯ জন পুরুষের সাথে ভোট যুদ্ধে তিন নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২১৭
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। এ ভোটের লড়াইয়ে প্রস্তুত নারী প্রার্থীরাও। তবে নির্ধারিত নারী আসনে নয় বরং পুরুষদের পাশাপাশি প্রতিযোগিতা করেই নির্বাচিত হতে চান টাঙ্গাইলের তিন নারী প্রার্থী, হতে চান সংসদ সদস্য।  এ  নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তারা। তাঁরা বিজয়ী হয়ে সন্ত্রাস, মাদক, বৈষম্যমুক্ত সুন্দর সমাজ গড়তে চান।
 
তিনটি আসনে ওই তিন প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীসহ ১৯ জন পুরুষ প্রার্থী।
 
টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে তিন নারী প্রার্থী ভোট লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন।
 
তারা হলেন- টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে স্বতন্ত্র (ঈগল) প্রতীকের প্রার্থী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) প্রতীকের প্রার্থী রুপা রায় চৌধুরী ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইলে) তৃণমূল বিএনপির  (সোনালী আঁশ) প্রতীকের প্রার্থী পারুল।
 
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের প্রার্থী উপজেলার বেতডোবা গ্রামের সারওয়াত সিরাজ শুক্লা সাবেক মন্ত্রী এবং স্বাধীনতার ইসতেহার পাঠক শাহাজাহান সিরাজের মেয়ে। শুক্লা সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী। তাঁর বাবা শাহাজাহান সিরাজ আওয়ামী লীগ, জাসদ, গণফোরাম, বিএনপি যখন যে দল করেছেন তার অনুসারীরা সেই দলেই ঠাই নিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর পরও রয়ে গছে অনেক ভক্ত। শাজাহান সিরাজের অনুসারীদের সাথে নিয়ে সারওয়াত সিরাজ শুক্লা নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। 
 
ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, আমার বাবা শাহজাহান সিরাজের পাশে যেভাবে কালিহাতীবাসী দাঁড়িয়েছেন আমার পাশেও সেভাবেই থাকবেন। আমি অবশ্যই কালিহাতীকে মাদক, সন্ত্রাস, বৈষম্যমুক্ত, সুন্দর অনন্য উচ্চতার একটি উপজেলা গড়ার জন্য কাজ করবো। আমি বিজয়ী হলে সবার আগে শিশু ও নারীদের জন্য একটি হাসপাতাল করবো। আমি শতভাগ আশাবাদী ভোট দিয়ে কালিহাতীর জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। 
 
তাঁর বিপরীতে হেভিওয়েট প্রার্থী আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রতীকের প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের মনোনীত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু, জাকের পার্টির (গোলাপ ফুল) প্রতীকের প্রার্থী মোন্তাজ আলী, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীকের প্রার্থী লিয়াকত আলী, তৃণমূল বিএনপির (সোনীল আঁশ) প্রতীকের শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (একতারা) প্রতীকের প্রার্থী শুকুর মামুদ ও জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) প্রতীকের প্রার্থী সাদেক সিদ্দিকী ভোট যুদ্ধে রয়েছেন।
 
টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী  আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫৬ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯২, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬২, হিজড়া ২ জন। 
 
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন রুপা রায় চৌধুরী। তিনি একজন গৃহীনী। মির্জাপুরের বাগজান গ্রামের অনিল মৈশালের মেয়ে ও হিমাংশু শেখর রায় চন্দনের স্ত্রী তিনি। সর্বমহলে পরিচিত এই নারীর নির্বাচন করা হলো একমাত্র নেশা। তিনি এর আগে একবার ইউনিয়ন পরিষদে ও দুইবার জাতীয় সংসদ এবং একবার উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবার জামানত হারানো এই নারী এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
 
ডাব প্রতীকের প্রার্থী রুপা রায় চৌধুরী বলেন, জনগণের সেবা করা আমার ইচ্ছা। আমার বিশ্বাস, জনগণ একবার না একবার আমাকে সেবা করার সুযোগ দিবেই। আমি বিজয়ী হলে মির্জাপুরকে স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবো। সুষ্ঠু ও নিরপক্ষ নির্বাচন হলে আমি আশাবাদী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। 
 
এ আসনে তার বিপরীতে প্রার্থী বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের মনোনীত  (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ, তিনবারের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রতীকের প্রার্থী মীর এনায়েত হোসেন মন্টু,  কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের (গামছা) প্রতীকের প্রার্থী আরমান হোসেন তালুকদার, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ী) প্রতীকের প্রার্থী গোলাম নওজব চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির, জাকের পার্টির (গোলাপ ফুল) প্রতীকের প্রার্থী মোক্তার হোসেন ও জাসদ (মশাল) প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর রহমান মজনু ভোট যুদ্ধে রয়েছেন।
 
টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪৩২ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ২০৬, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২০, হিজড়া ৬ জন। 
 
টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী নাম লিখিয়েছেন পারুল। কালিহাতী উপজেলার গোলড়া গ্রামের গৃহীনী পারুল লোকমান হোসেনের স্ত্রী। তিনি সখীপুর-বাসাইলে অপরিচিত এক নাম। এই আসনে তাকে চেনেন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। তারপরও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। 
 
সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী পারুল বলেন, আমি অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি দূর করে দুই উপজেলাকে সুন্দর করে সাজাতে প্রার্থী হয়েছি। দুই উপজেলার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে মানবকল্যাণে নিবেদিত থাকবো। 
 
এ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (গামছা) প্রতীকের প্রার্থী বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের মনোনীত  (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী অনুপম শাহজাহান জয়, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাশেম ও বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা কামাল।
 
টাঙ্গাইল-৮ বাসাইল- সখীপুর আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৯০ হাজার ১০ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮২, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৪, হিজড়া ৪ জন।